আজ ৫ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৯শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম:
বিআরটিসি’র বিরুদ্ধে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে অপতৎপরতাকারীদের বিরুদ্ধে সাইবার আদালতে মামলা। চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়ালো বিআরটিসি। এডভোকেট সোহানা তাহমিনার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা উচ্চ আদালতে। মুন্সিগঞ্জ-২ আসনে ট্রাক প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করবেন এড, সোহানা তাহমিনা। লৌহজংয়ে নানা আয়োজনে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস পালিত। মুন্সীগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ও বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী পালিত হল মহান বিজয় দিবস। লৌহজং উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে বিজয় দিবস উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী মেলার আয়োজন। লৌহজংয়ে আদালতের রায় অমান্য করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, মানবেতর জীবন-যাপন ভুক্তভোগী পরিবার। লৌহজংয়ে ভাওতা দিয়ে লবণের বিনিময়ে সর্বস্ব লুট! লৌহজংয়ে ৫ জয়িতার সম্মাননা লাভ।
||
  • Update Time : আগস্ট, ৩, ২০২৩, ৫:১৭ পূর্বাহ্ণ

ভুমি অফিসের চাকুরী যেন আলাদিনের প্রদীপ: রাসেল এখন বড় সাইজের কোটিপতি!

এম রাসেল সরকার: খিলগাঁও সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের নকল নবিশ (একধরনের দলিল লেখক) মোঃ রাসেল এখন বড় সাইজের কোটিপতি। দুর্নীতি আর অপকর্মের অলরাউন্ডার। বলে বলে চার ছক্কা। ভুমি অফিসের চাকুরী যেন আলাদিনের প্রদীপ। ঘষা দিলেই শুধুৃ ট্যাকাই ট্যাকা।

সরকারি হিসেবে মাসিক আয় সর্বোচ্চ কাজের ভিত্তিতের ২০ থেকে ২৫ হাজার। কোন মাসে পাঁচ হাজারও হয়। এই সীমিত আয়ের রাসেলের ঢাকায় গড়ে তুলেছেন আলিশান বাড়ি, ফ্ল্যাট, গাড়ি, ব্যাংক ব্যালেন্স, শত কোটি টাকার নামে বেনামের সম্পদ। রাসেলের পিতা তেজগাঁও পলিকন টেক ফ্যাক্টরির পিয়ন মো. আলাউদ্দিনের নামে ২০১৯ সালে আফতাব নগর হাউজিং প্রকল্পে প্লট নং এফ/১৮, রোড নং -৪, সেক্টর নং -২, ব্লক -এফ ৬কাঠার প্লটে নির্মাণ করেছেন ৭তলা বিশিষ্ট আলিশান বাড়ী।

স্ত্রী মিসেস লাকির নামে গুলশান লিঙ্ক রোড নাভানা টাওয়ারে রয়েছে একটি ফ্লাট। জানা যায়, বর্তমানে এই ফ্ল্যাটেই বসবাস করেন রাসেল দম্পতি। নিজের চলাফেরা করার জন্য রয়েছে একটি প্রাইভেটকার এবং পরিবার চলাফেরা জন্য রয়েছে একটি কালো রঙের মাইক্রো। রাসেলের ক্ষমতার দাপটে খিলগাঁও অফিসের সাব-রেজিস্টার জিম্মি হয়ে তাহার কথামত কাজ করতে হয়।

অনিয়ম আর দুর্নীতির আখড়ার গডফাদার এই নকল নবিশ রাসেলের সিন্ডিকেটে স্থানীয় কমিশনার সহ অনেককেই আওতাভুক্ত করে যেকোনো সেবা গ্রহীতাকে জিম্মি করে ফেলে নিজেদের নিয়ম মত কাজ করতে বাধ্য করেন।

জানা যায়, স্থানীয় কমিশনার নাকি তাহার মামা। রাসেলের দুর্নীতির বড় নিয়ম গুলোর মধ্যে হয় একটি রেজিস্ট্রি কাজে সরকারের ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন রকমের কৌশলে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব ফাকি দেয়া। রেজিস্ট্রি অনিয়ম গুলো খাস জমিকে বানানো হয় মালিকানা, নাল জমিকে বানান বসতভিটা, বসত ভিটাকে বানান নাল, সিটি কর্পোরেশনকে বানান পৌরসভা ও ইউনিয়ন, এভাবেই সরকারের ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে দুর্নীতি করে অবৈধভাবে আয় করেন কোটি কোটি টাকা।

এই রাসেল এক সময় তেজগাঁও লালমাট বস্তিতে বসবাস করতেন জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই বাবা মায়ের সাথে এই বস্তিতেই থাকতেন এক সময়কার বস্তিবাসী সাথে বসবাসকারী রাসেল এখন শত কোটি টাকার মালিক দেখে অনেকেই বিস্মিত। এখনো রাসেলের পিতা ১৯ নিউ তেজগাঁও, শিল্প এলাকা, ঢাকা পোলিকন টেক ফ্যাক্টরিতে অফিস সহায়ক পদে চাকরি করেন। যার মাসিক বেতন ১০ হাজার টাকা।

প্রশ্ন হল এই দশ হাজার টাকা বেতনের কর্মচারী কি করে অর্ধশত কোটি টাকার একটি বাড়ি নির্মাণ করেন, বাস্তবে এই বাড়িটি দুর্নীতির অভিযোগ থেকে বাঁচার জন্য নিজের পিতার নামে করেন।

অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও তেজগাঁও অফিসে থাকাকালী রাসেলের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ গ্রহণ করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ছিল। এরপরও মার্চ ২০২২ সালে রাসেল সহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ পূর্ব থেকে খামখেয়ালি পোনা করে আসছে, বিশিষ্টজনরা এসব দুর্নীতির প্রশ্রয় হিসেবে কর্তৃপক্ষের গাফলিতির দায় অধিকাংশই রয়েছে বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে রাসেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। চলবে.!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন